আনজারার সাথে জেনে নিন গাউন স্টাইলিং এর ইতিকথা: বিবেচনায় রাখবেন যে ৪ টি দিক
সময়ের সাথে সাথে নারীদের পোশাকের ধরনেও এসেছে পরিবর্তন। এককালে শাড়ী কিংবা সালোয়ার কামিজের ঝোঁক থাকলেও বর্তমানে নারীরা ঝুঁকছেন পোশাকের বৈচিত্রতার দিকে। আধুনিক ফ্যাশনের কথা বলতে গেলেই বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় পোশাকের একটি হল গাউন ।তাইতো ফ্যাশন সচেতন নারীরা নিজেকে স্টাইলিশ লুকে প্রেজেন্ট করতে বেছে নিচ্ছেন ওয়েস্টার্ন ধাঁচের পোশাক গাউন। পায়ের পাতা পর্যন্ত ছড়ান এ পোশাকের প্রামাণিকতা ইউরোপিয়ান হলেও, হাল ফ্যাশনের নারীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এ পোশাক । বিয়ের অনুষ্ঠান হোক বা পার্টি কিংবা জরুরি কোন ইভেন্ট, সব প্রোগ্রামেই গাউন এনে দেয় ফ্যাশনেবল লুক। অনুষ্ঠান, মৌসুম, ইভেন্ট হিসেবে গাউনের মধ্যে রয়েছে নানান ডিজাইন আর ধরন ।
কিন্তু শুধু গাউন কিনে পরলেই কি শেষ, পোশাকে নিজের বাক্তিত্ত আর আভিজাত্যকে ফুটিয়ে তুলতে চাই পারফেক্ট স্টাইলিং। তাইত নিজের বাক্তিত্ব, গড়ন, রঙ, ইভেন্ট সব কিছুকে বিবেচনায় রেখে কিভাবে আধুনিক এ পোশাকে নিজেকে তুলে ধরতে পারেন তা নিয়ে সাজান হয়েছে আজকের ব্লগ। চলুন তাহলে দেখে নেয়া যাক, গাউন স্টাইলিং এর ৪ টি বিবেচ্য বিষয় এবং এর আদ্যোপান্ত:
১) শারীরিক গড়নের তারতম্য অনুসারেঃ
এদেশের নারীদের গড়ন মাথায় রেখে ডিজাইনার রাও কাটে আনছেন পরিবর্তন। একটু ভারি বা পাতলা যে গড়নই হোন্ না কেন, আপনার কথা মাথায় রেখে আনজারার গাউনে আনা হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন স্টাইল।
আওয়ার গ্লাস শেপঃ
আওয়ার গ্লাসকে অনেকেই নারীর আদর্শ গঠন মনে করে থাকেন । তাই আপনার বডি কার্ভ কে ফুটিয়ে তুলে এমন ধরনের গাউন সিলেক্ট করুন। আওয়ার গ্লাস শেপের শারীরিক গড়ন হয়ে থাকলে মারমেইড বা শেপের গাউন বেছে নিন। বডি ফিট বা বডি হাগিং ধাঁচের গাউন আপনাকে এনে দেবে প্রিন্সেস লুক।
আপেল শেপঃ
সরু কোমর আর কাঁধ চওড়া হলে, অর্থাৎ আপেল শেপের শারীরিক গড়নের বেস্ট চয়েস হল কোমরের নিচ থেকে ছড়ান গাউন। একটু আওয়ার গ্লাসের মত কার্ভি লুক চাইলে, এ ধরনের গাউন দেখতে পারেন।
পিয়ার শেপঃ
পিয়ার শেপ বডি বলতে যাদের কোমর শরীরের বাকি অংশের তুলনায় চওড়া হয়। এ লাইন বা ট্রাম্পেট গাউন যা ঘণ্টা আকৃতির মত উপরে সরু আর নিচে দুই ধারে ছড়ান ডিজাইন, পিয়ার শেপের নারীদের আদর্শ পছন্দ। এ গাউনে কাঁধ আর কোমরে সামঞ্জস্য দেখাবে এছাড়াও আওয়ার গ্লাস লুকের ইলিউশন তৈরি করবে ।
অ্যাথলেটিক শেপঃ
একটু অ্যাথলেটিক বা লম্বা মধ্যম গড়নের হলে, বল্ গাউনের কোন জুড়ি নেই। বল গাউন কোমর পর্যন্ত বডি ফিটেড হয়, আর কোমরের নিচ থেকে থাকে
ফোলা স্কার্ট অংশ ৷ আপনার উচ্চতার সাথে ভলিউম স্কার্ট শেপ আর বডি ফিট সব মিলিয়ে আপনাকে করে তুলবে আরও আকর্ষণীয়।
২) বাক্তিত্ব অনুসারেঃ
সৌন্দর্যের পাশাপাশি আপনার পোশাকে আপনার রুচি আর শৈলী তুলে ধরতে ভুলবেন না। সাজে ভিন্নতা আনতে এক্সপেরিমেন্ট করতে পারেন স্লিভ লেন্থ আর নেক লাইন নিয়ে। ফুল স্লিভ বা হাই নেক কিংবা ডিপ ভি নেক গাউনে আপনার ইউনিক আর বোল্ড চয়েসে ফুটিয়ে তুলুন আপনার কনফিডেন্স সবার সামনে।
বোল্ড:
আপনার আত্মবিশ্বাস আর বোল্ড ভাব তুলে ধরার জন্য চাই হাই স্লিট আর বোল্ড প্রিন্টের গাউন। আবার দেশীয় ডিজাইনের উজ্জ্বল রঙের মাল্টিকালার গাউন পড়েও আনতে পারেন ড্রামাটিক লুক।
মিনিমালিস্ট:
অনেক নারীরাই পোশাকে বেশি ডিজাইন বা কাজ পছন্দ করেন না । অনুষ্ঠানে একেবারে সাদামাটা পোশাকেও যাওয়া যায় না । তাদের জন্য উপযুক্ত মনোক্রম ধরনের গাউন । এতে আপনাকে স্টাইলিশ ও দেখাবে আর আপনার রুচির বাইরে ড্রেস আপ করতে হবেনা।
প্রাণবন্ত:
সিম্পল ফ্লোরাল প্রিন্টের ফ্লোয়ি গাউন , সাথে হালকা জুয়েলারি সাথে গাঢ় কালার লিপস্টিকে আপনাকে লাগবে প্রাণবন্ত এবং ফুরফুরে । গ্র্যাজুয়েশন প্রোগ্রাম বা বসন্ত উৎসবে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে পারেন নিজেকে।
৩) রঙ নির্বাচনঃ
পোশাককে দৃষ্টিনন্দন করতে সবচেয়ে মুখ্য ভূমিকা রাখে রঙ । তাই গাউন কিনতে রঙের সামঞ্জস্য জানাটা অত্যন্ত জরুরী।
এলিগ্যান্ট ব্লু:
মার্জিত আর অভিজাত রঙের মধ্যে নীল রঙ একটি। যেকোনো ফরমাল ইভেন্টের জন্য গাঢ় শেডের প্রুসিয়ান বা রয়্যাল ব্লু গাউন রাখতে পারেন পছন্দের তালিকায়। ডার্ক রঙের গাউন ক্যানভাসের মত যেকোনো মেকআপের সাথে মানানসই আবার অ্যাকসেসরিজ দিয়ে তৈরি করা যায় গ্ল্যামারাস আউটফিট।
রোমান্টিক লাল রংঃ
প্রাণবন্ত লাল রঙের সাথে জড়িয়ে থাকে আত্মবিশ্বাস আর রোমান্সের ব্যাপারটি। প্রিয় মানুষের সাথে সময় কাটান বা রোমান্টিক ডেট নাইটে লাল রঙের গাউনে আপনাকে দেখাবে মনোমুগ্ধকর। ব্রাইডাল গাউন হিসেবেও লাল রঙ কিন্তু বেশ মানাবে। আপনি বিয়ের পোশাকে লাল রঙ প্রেমী হয়ে থাকলে, দেশীয় ধাঁচের ফিউশন রেড গাউন সবচেয়ে উপযোগী।
ল্যাভেন্ডারের স্নিগ্ধতা:
ল্যাভেন্ডার প্রশান্তির রঙ । ব্রাইডাল শাওয়ার বা বীচ ওয়েডিং ফাংশনে ল্যাভেন্ডার রঙ এর গাউন ছড়াবে স্নিগ্ধতা । ওয়েস্টার্ন ডিজাইনের ল্যাভেন্ডার গাউন আর সাথে সিম্পল পার্ল জুয়েলারি আপনার কমনীয়তা ফুটিয়ে তুলবে । বর্তমানে দেশিয় ডিজাইনাররাও এ পশ্চিমা আর দেশিয়ও সংস্কৃতির মিশেলে তৈরি করছেন ফিউশন পোশাক। হালকা রঙের কারুকাজ করা গাউন বর্তমানে যেকোনো বিয়ের অনুষ্ঠানে বা পার্টির আকর্ষণীয় পোশাকগুলোর একটি।
৪) অনুষ্ঠান অনুসারে গাউন স্টাইলিংঃ
ইভিনিং পার্টিঃ
ইভিনিং পার্টি মানেই রেড কার্পেট, গালা নাইট আর জাঁকজমক। এই জমকালো আয়োজনের মাঝে আপনার ড্রেস আপ হওয়া চাই সবচেয়ে নান্দনিক।
যা যা করবেন:
– ইভিনিং পার্টির জন্য অবশ্যই গাঢ় লাল, রয়্যাল ব্লু, সবুজ পান্না বা মেরুন ধরনের উজ্জ্বল রঙ সিলেক্ট করবেন। গাউনে দেশিয় ছাপ আনতে চাইলে সাথে কাজ করা ওড়না দিয়ে ফিউশন লুক তৈরি করতে পারেন। আর ওয়েস্টার্ন থিম হলে গলায় ফার আর দামি ক্লাচ সাথে রাখতে পারেন।
– ফরমাল গালা ইভিনিং এ মারমেইড বা এ – লাইন কাটের গাউন পছন্দের তালিকায় রাখতে পারেন।
– ইভিনিং পার্টি মানেই উজ্জ্বল লাইটিং। লাইটিং আর থিমের সাথে তাল মিলাতে এমব্রয়ডারি, কারুকার্য বা ঝলমলে পার্টি গাউন পড়তে পারেন। ঝলমলে পার্টি গাউনে নজর কাড়বে সবার।
যা করবেন নাঃ
– কাজুয়াল ফেব্রিক যেমন কটন বা লিনেন কাপড়ের গাউন ইভিনিং পার্টির জন্য সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত। পার্টির আবহের সাথে মিলিয়ে অবশ্যই সিল্ক, ভেলভেট বা জর্জেটের মত লাক্সারি ফেব্রিক হতে হবে।
– অতিরিক্ত গহনা পরবেন না। গাউনের সাথে মিলিয়ে সিম্পল কানের দুল বা ক্লাচ ই যথেষ্ট।
ব্রাইডাল ফাংশনঃ
আগে ব্রাইডাল গাউন বলতেই পশ্চিমা ঐতিহ্যের সাদা বিয়ের পোশাক ভাবা হলেও, বর্তমানে এদেশের পোশাক শিল্পীরা গাউনে এনেছেন দেশিয় ছোঁয়া। ব্রাইডাল গাউনে ফুটিয়ে তুলেছেন সূচিশিল্প কারুকাজ সহ নানা দেশীয় ঐতিহ্য। বিয়ের নানান ফাংশনে অনেকেরই পছন্দ এখন ফিউশন গাউন।
যা যা করবেন:
– বিয়ের থিমের সাথে মিলিয়ে গাউনের রঙ আর ডিজাইন পছন্দ করবেন। রোমান্টিক থিমের অনুষ্ঠানে একটু প্যাস্টেল কালারের গাউন বেশি মানানসই। ল্যাভেন্ডার, মিন্ট গ্রীন বা বেবি পিঙ্ক কালার নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে পারেন।
– ব্রাইডাল ফাংশনে পোশাক হওয়া চাই চকমকে। এমব্রয়ডারি, পুতি বা পার্ল যেটাই হোক না কেন, গাউনে যেন থাকে ঝলমলে ভাব।
যা করবেন না –
– বেশি হেভি কাজযুক্ত দোপাট্টা নিবেন না। ভারী ডিজাইনের গাউনের সাথে বেশি ভারি দোপাট্টা গাউনের আকর্ষণ কমিয়ে দিতে পারে।
– জুয়েলারি যাতে গাউনের প্যাটার্ন বা কাজের সাথে বেখাপ্পা না হয়। যেমন গাউনের সাথে বেশি ছড়ান হেড আক্সেসরিজ না নিয়ে টিকলি বা সিম্পল ঝাপটা পড়তে পারেন।
ফরমাল ইভেন্টঃ
অফিস পার্টি বা কোন ফরমাল বিজনেস ইভেন্টে চাই ক্লাসি লুক। তাই ড্রেস কোড বজায় রেখে গাউন স্টাইলিং করতে হবে।
যা যা করবেন :
– বিজনেস পার্টির জন্য ফ্লোর টাচ গাউন পড়তে পারেন। কিংবা স্লিভলেস গাউনের সাথে পাতলা কোন কোটি টাইপের জ্যাকেট দিয়ে গাউন টি স্তাইলিং করতে পারেন। এতে একই সাথে আপনাকে লাগবে স্টাইলিশ এবং মার্জিত।
– মিনিমালিস্ট বা নুড মেকআপ করতে ভুলবেন না। এতে এখনকার মিনিমাল মেকআপ ট্রেন্ড ও ফলো হবে।
যা করবেন নাঃ
– ফরমাল অনুষ্ঠানে উজ্জ্বল বা ঝকমকে রঙের গাউন না পড়াই ভাল। হালকা বা একটু ডার্ক শেড বেছে নেয়ার চেষ্টা করবেন।
– ভুলেও গাউনের সাথে স্নিকার বা সান্ডাল পরবেন না। এটি ফরমাল ইভেন্টে দেখতে যেমন খারাপ লাগবে তেমনি গাউনের সম্পূর্ণ লুক তাও নষ্ট করে দিতে পারে। ফরমাল হিল গাউনের জন্য বেস্ট অপশন।
কাজুয়াল আউটফিটঃ
কাজুয়াল পোশাক বলতে শুধু আরামদায়ক ড্রেস কোডকে বুঝায় তা না। কখনও কখনও প্রোগ্রাম বা পরিবেশের সাথে মানিয়ে একটু সাদামাটা লুকের প্রয়োজন। আরাম আর স্টাইলিং এর মাঝে সামঞ্জস্য রেখে গাউন আপনাকে দিতে পারে প্রাণবন্ত সাজ।
যা যা করবেন:
– কাজুয়াল লুকে ম্যাক্সি বা ঢিলেঢালা ধরনের গাউন পরবেন। এর সাথে কোমরে বেল্ট পড়ে বডি শেপে ফ্লোয়ি লুক আনা যেতে পারে।
– হালকা ওয়েভি, মেসি বান বা ঢিলা বেণি কাজুয়াল গাউনের সাথে বেশ মানাবে। এতে আপনি যেমন স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন আর লুকে কাজুয়াল ভাব ও ফুটিয়ে তুলবে।
যা করবেন নাঃ
– বেশি লম্বা ঘের এর গাউন এড়িয়ে চলবেন। কাজুয়াল আউটফিট হিসেবে ট্রেন এর মত লম্বা ঘেরএর গাউনে আরামদায়ক ভাবে চলাফেরা করতে পারবেন না।
– ভেলভেট, সিল্ক বা সাটিনের ফাব্রিক না পরাই ভাল। আরামের কথা মাথায় রেখে দেশিয় ফ্যাশনের কটন বা লিনেনের ফিউশন গাউন দেখতে পারেন।
ফ্যাশন প্রেমী নারীদের জন্য গাউন রয়েছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে। তাই পারফেক্ট গাউন স্টাইলিং করে আপনিও হতে পারেন ফ্যাশন ট্রেন্ডসেটার। উপরের ফ্যাশন টিপসগুলো মাথায় রেখে আপনার অনন্য বাক্তিত্ত আর স্টাইল দিয়ে তাক লাগিয়ে দিন সবাইকে।